সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে করণীয় প্রসঙ্গে

  • আপলোড সময় : ২৩-০৩-২০২৫ ০১:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৩-২০২৫ ০১:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে করণীয় প্রসঙ্গে
বলা হচ্ছে দেশে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ বাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসংঘসংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অন্তত তাই বলছে। একটি পত্রিকায় মাগুরার শিশুধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘কেবল মাগুরার ঘটনা নয়, বিভিন্ন স্থানে যেভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে, তাতে যেকোনো নাগরিকেরই উদ্বিগ্ন হওয়ার কথা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ২৯৪ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ৯৬ জন, যার মধ্যে ৪৪ জনই শিশু।’ এই তথ্য বলছে, নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা চলছে এবং তা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কারও কারও অভিমত এই যে, নারী ও শিশুর উপর সহিংসতার তীব্রতা আপাতদৃষ্টিতে বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে, বরং বর্তমানে সহিংসতার যে মাত্রাকে ‘বেড়েছে’ কিংবা ‘বাড়ছে’ বলে পরিলক্ষিত হচ্ছে প্রকৃতপ্রস্তাবে সমাজপরিসরে সহিংসতার তীব্রতা সে মাত্রার চেয়ে বেশিই বিদ্যমান আছে। এই মতের নির্গলিতার্থ এই যে, আন্তর্জালিক সংস্কৃতির খোলামেলা পরিসরে ইদানিং সহিংসতা নিজেকে গোপন করে রাখার সামর্থ্য কীছুটা হলেও হারিয়েছে এবং এই কারণে মনে হচ্ছে যে, সমাজে সহিংসতা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সহিংসতাপ্রবণ সমাজটিকে ভুলে গেলে চলবে না। এখানে প্রতিষ্ঠিত কাঠামোগত সহিংসতার পরিসরে সর্বপ্রকার রাজনীতিক, সামাজিক ও আর্থনীতিক সহিংসতাসহ পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতির আবহে লালিত যৌনসহিংসতাও জায়মান আছে। আমাদের সমাজের বৈশিষ্ট্যই এমন, এখানে জনসমক্ষে যে কোনও ধরণের নারীনির্যাতন বা যৌনসহিংসতা সংশ্লিষ্ট ঘটনার বর্ণনাবিবরণের প্রকাশ ঘটে না, ক্ষেত্রবিশেষে সামাজিক বিচার-সালিশ বসিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার পরিসর তৈরি করা হয় মাত্র এবং এমনকি ভুক্তভোগী যাতে সংশ্লিষ্ট বৈচারিকসংস্থার কাছে বিচারপ্রার্থী হতে না পারে তার জন্য বিচারপ্রার্থীসহ তার স্বজনদেরকে ঠেকানোর জন্য মাতব্বরদের পক্ষ থেকে ভোক্তভোগী ও তার স্বজনদেরকে সমাজচ্যুত করা ও এলাকা থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দেওয়া হয়, প্রয়োজনে খুন পর্যন্ত করা হয়। অপরদিকে আইন প্রয়োগ করা হয় অপরাধ সংঘটনের পর। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে এবং অপরাধ সংঘটনের পর সেটাকে ধামাচাপা দেওয়া ও আইনের ফাঁক ব্যবহার করে শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার কার্যক্রম চলে পুরোমাত্রায়, প্রকারান্তরে বিচারপ্রাপ্তিকে দামি পণ্য করে তোলা হয়। যেমন ব্যতিক্রমবাদে প্রায় ক্ষেত্রেই ধর্ষণের সালিশ বসানোই হয় টাকা লেনদেনের একটি কৌশল হিসেবে। অর্থ আয়ের এই প্রবণতার খপ্পড়ে পড়ে আইন আসলে বিচার বাণিজ্যিকতার বৈশিষ্ট্যে যতোটা সমোজ্জ্বল হয়ে উঠে ততোটা অপরাধীকে শাস্তি প্রদানে শানিত হতে পারে না এবং সিংহভাগ অপরাধী যথারীতি রেহাই পেয়ে যায়। অভিজ্ঞমহলের ধারণা এই যে, অপরাধী ধরা পড়লে শাস্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে সরকারকে, অর্থাৎ আইনকে। একটি পত্রিকার অনুসন্ধন বলছে যে, এই দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ৩ শতাংশ অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত হয় মাত্র। বাকিরা আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যেতে পারেন সহজেই। বিচারব্যবস্থার সামগ্রিক পরিসরে এমনটাই চলছে বলা যায় এবং এই অবকাশে উত্তরোত্তর অপরাধ বাড়ছে বৈ কমছে না। তাই বলছি : আইনের ফাঁকফোকর যেমন বন্ধ করা দরকার, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে, যাতে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই সেটাকে প্রতিরোধ করা যায় এবং তার সঙ্গে রাজনীতিক সমাজ কর্তৃক নাগরিক সমাজের উপর রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে কাঠামোগত সহিংসতার চর্চার অবসানকল্পে সমাজসাংস্থিতিক পরিসরটিকেও জনবান্ধব করে তুলার পক্ষে বদলে দিতে হবে। অন্যথায় দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যাহত হবেই, কোনওক্রমেই প্রতিহত করা যাবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স